Posts

নীল ভালোবাসা

শহীদ মিনার জায়গাটা আমার খুব প্রিয়। বিকেলের ঝিম ধরে যাওয়া সময়টাতে সূর্য মামা যখন পশ্চিম দিগন্তে লুকিয়ে পরার প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত তখন এখানে অন্য রকম এক প্রানের মেলা বসে যায়। কতগুলো স্বপ্নপ্রান মানুষ স্বপ্ন দেখায় একটুক্ষণ ক্ষান্ত দিয়ে, কেউ বা আবার নতুন কোন স্বপ্নের প্রাসাদ বুনতে এখানে ভিড় জমায়। আমি কিন্তু উপরের কোন দলেই পড়ি না। আমি আসি মানুষ দেখতে। প্রেমিকা প্রেমিকের ঘাড়ে মাথা রেখে পরম নিশ্চিন্তে কুটকুট করে গল্প করতে থাকে, সদ্য হাঁটতে শেখা বাচ্চারা চোখে রাজ্যের বিস্ময় আর মুখে এক থালা হাসি নিয়ে এদিক ওদিক ঘুরতে থাকে, কেউ বা সাইকেল চালাতে এসে হঠাৎ করে পরে গিয়ে লজ্জা লজ্জা মুখে এদিক ওদিক তাকিয়ে আবার সাইকেলটা তুলে চালাতে শুরু করে। আমি স্বপ্নের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া মানুষ, নতুন করে স্বপ্ন দেখতে আমার ভয় হয়।]   - ভাইয়া, একটা ফুল নেন না। (একটা ৫-৬ বছরের প্রায় উলঙ্গ ছেলে এসে আমাকে বলল) - আমার তো ফুল দেয়ার মত কেউ নেই গো আমার পাশে বসা হৃদিতার দিখে তাকিয়ে ওর হলুদ দাঁত গুলা বের করে বলল -কেন আপা মনির সাথে কি আপনার ‘বেরেক আপ’ হইছে নাকি? ওর মুখে অদ্ভুত ইংরেজি শুনে আমিও হেসে বললাম -হ্যাঁ, ‘বে...

ভয়ভালবাসার সমাপ্তি নেই

  ফেইসবুক এর প্রতি আকাশের দুর্বলতাটা বরাবরই একটু বেশী। ফেইসবুকে চ্যাট আর এটা-ওটা করেই দিন চলে যেতো তার। বন্ধুদের স্ট্যাটাসে কমেন্ট করে আর গল্প করেই সে সব চাইতে বেশী সময় কাটাতো। কিন্তু যখন ফেইসবুক বন্ধুরা অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকতো আর যখন গল্প করার জন্য কোনো বন্ধুকে অনলাইনে পাওয়া যেতো না তখনই আকাশের জীবনে নেমে আসতো একাকীত্বের ঘোর অন্ধকার।   এইভাবেই আকাশের সময় চলে যাচ্ছিলো তার নিজস্ব গতিতে। একদিন তার এক বোনের স্ট্যাটাসে আকাশ কমেন্ট করছিল । সেই স্ট্যাটাসেই আকাশের সাথে পরিচয় হয়েছিল নাবিলার সাথে। পরিচয়ের পর থেকেই আকাশ নাবিলার জন্য মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লো। তার মনের অজান্তেই সে নাবিলাকে ভালবাসতে আরম্ভ করেছিল। কেন যেন আকাশের মনে হতো নাবিলাই আকাশের সেই স্বপ্নের রাজকন্যা যার জন্য সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। নাবিলাকে ফেইসবুকে এক মুহূর্ত না দেখে সে থাকতে পারতো না। শুধু একদিনের জন্য নাবিলা ফেইসবুকে আসেনি। সেই দিন তো আকাশের মনের আকাশে ভয়ঙ্কর কালো মেঘ জমেছিল যা শেষ পর্যন্ত অঝোর ধারায় আকাশের দুই চোখকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতো। নাবিলার প্রতি আকাশের আবেগ ও অনুভূতি দিনদিন বেড়ে যেতে...

ভয় ভয়ে ভালোবাসা

টুসিকে আমার এখনো ভুলে যাওয়া হয়নি। আজ সকালে এমন আষাঢ়েও পুরো আকাশটাতে নীলের ছড়াছড়ি দেখে আবার তাকে মনে পড়ে গেল। যদিও তা সুখকর নয়। নীল আমাকে খুব আনন্দ দেয়। আমি কখনও বলি না যে, কষ্টের রং নীল। অথচ সেই আনন্দ খুজে পাওয়া নীলের মাঝেই আজ আমি বিষাদের ছায়া খুজে পেলাম। ইউরেকা !! বলে চিৎকার করার কোন সুযোগ ছিলো না। কোন এক সময় পুরো সময়টার জন্যই টুসি আর আমি আলাদা ছিলাম না। দারুন জোড় ছিলো দু’ইয়ের মাঝে। ভয়ংকর সুবোধ মেয়ে বলে জানতো সবাই। একটু আধটু দুষ্টুমি আমার সাথেই ছিলো। তা তো থাকবেই। সংসার নামক জঞ্জাল বাঁধানোর স্বপ্নও যে আমাকে ঘিরে দেখতো। এ রকমই জানতাম আমি। আমার কাছে তার প্রচুর চাওয়ার ছিলো; প্রতিদিন কিছু না কিছু চাইতো সে। আমিও তা পূরণ করার আনন্দে প্রতিদিনই ভালোবাসা বেশি পেতাম।আমার কাছে তার প্রথম চাওয়া ছিলো একটি বেগুন পাতা রংয়ের রং পেন্সিল !! সে দিন সে বৃষ্টির রাতে, তাও গত এক আষাঢ়ে ঘরে বসে ছবি আঁকার নেশায় পেয়েছিল। চার পাঁচ সেট পেন্সিল খুজেও বেগুন পাতা রঙের পেন্সিল পাওয়া যায়নি। মুঠো ফোনের কল্যাণে আমি হলাম কাক ভেজা। একেতো রাত আটটার পর দোকান বন্ধ। তার উপর বৃষ্টি। তবুও বেরিয়ে প...